ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, নিহত ১১ নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট ডেকে আনতে পারে বিশ্বমন্দা মানবতাবিরোধী অপরাধে নানক-তাপসের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি যা ইচ্ছা তাই করছে: হাসনাত আবদুল্লাহ আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট— ডা. শফিকুর রহমান হরমুজ ঘিরে আবারও উত্তেজনা, লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম নেপালে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার, বিক্ষোভের পর মুক্তি ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমাল সরকার শিশুদের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন গাড়ি শোডাউন বিতর্কে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মার্কশিট দেখাল দুই ভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা মাউশির বাংলাদেশিদের জন্য আগামী সপ্তাহে ভিসা চালু করছে ভারত- হুমায়ুন কবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার চিন্তা সরকারের আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি : নাহিদ ইসলাম

যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল

  • আপলোড সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০৩:৫৫:২৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০৩:৫৫:২৪ অপরাহ্ন
যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে পদার্পণ করেছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ (রোববার) ভোরে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলায় নিজ কর্মস্থলে শাহাদত বরণ করেন খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, জামাতা এবং নাতির শাহাদাতের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বারবার দাবি করে আসছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নিরাপদ এবং গোপন স্থানে বাস করেন। কিন্তু কর্মস্থলে তার মৃত্যু  এই দাবির অসারতা প্রমাণ করল।  
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন।




যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তার অবস্থান ও অভ্যাস সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে।সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।সিআইএ এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের হামলার সময় বদলে ফেলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।



সূত্রগুলো জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ।সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন।প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য বড় এক সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে, এতে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল।





একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকার পরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুরক্ষায় যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল।গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসি কীভাবে যোগাযোগ ও চলাফেরা করছিল—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তারিত তথ্য পায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।




এ ছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করেছিল। ইরানের নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পরবর্তী ধাপে, যেসব স্থানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানেও হামলা চালানো হয়।তবে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এক বার্তায় বলেন, আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সে।ওই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবু এই হামলায় ইসরাইল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে পেরেছে।হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।





এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানে ১,২০০- এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেখানে অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিদ্যালয়ে হামলায় ‘ডজনখানেক নিরীহ শিশু’ নিহত হয়েছে। 
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’ 

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নজিরবিহীন  জ্বালানি সংকট ডেকে আনতে পারে বিশ্বমন্দা

নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট ডেকে আনতে পারে বিশ্বমন্দা