যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে শত শত নিরপরাধ ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার (৭ মার্চ) এই অবৈধ ও উসকানিমূলক যুদ্ধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে তার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক উদ্বেগের জবাব দেন। গুতেরেস এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে আরাঘচি বলেন, ‘একে কেবল লড়াই বলা ঠিক নয়, এটি দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো একটি বিনা উসকানিতে আগ্রাসন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বিশ্ব অর্থনীতির চেয়ে মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, আপনি বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত কিন্তু গত ৭ দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের কী হবে? মিনাব শহরেই ১৭৫ জন ‘ছোট দেবদূত’ (শিশু) প্রাণ হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত থাকাবস্থায় গত নয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এই হামলা চালানো হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এই প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে সামরিক ও বেসামরিক উভয় এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে কঠোর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
Mytv Online