ঢাকা , রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সরফরাজ খাল খননে দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার: এ্যানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়া ‘অ্যালাউড’ না: স্পিকার সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৬ সেনার পরিচয় প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র সংসদের ভেতরে সমাধান না পেলে রাজপথে যেতে বাধ্য হবো ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের সওয়াব সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ ঈদের সময় স্বর্ণালংকার থানায় রাখতে পারবেন : ডিএমপি কমিশনার সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, রাডার ক্ষতিগ্রস্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে স্বামী–স্ত্রীর কর্মস্থল যাচাই হবে আইবাসে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ আহ্বান, সংস্কার পরিষদ বলতে কিছু নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ডা. শফিকুর রহমান পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নিয়ে বড় সুখবর অশ্রু আর ভালোবাসায় আলী শামখানিকে বিদায় ইরানের মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে রোববার গোয়ালঘর থেকে দেড় হাজার লিটার পেট্রল- অকটেন উদ্ধার

এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের সওয়াব

  • আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩০:১২ অপরাহ্ন
এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের সওয়াব
রমজানের শেষ দশক মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এই দশকের মধ্যেই রয়েছে সেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ঘোষণা করেছেন, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। একজন মানুষ যদি এই একটি রাত ইবাদতে কাটাতে পারে, তবে সে যেন প্রায় তিরাশি বছরের ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করে।


এই কারণেই নবীজি (সা.)শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, শেষ দশক শুরু হলে তিনি নিজের কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। এতে বোঝা যায়, এই সময়টাকে সাধারণ সময়ের মতো দেখার সুযোগ নেই, বরং এটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে সময় কাটানো  মুমিনের কর্তব্য।


 রাসূল  (সা.) এর নির্জনতার আমল 

রাসূলুল্লাহ মানুষের মাঝে দাওয়াত, শিক্ষা ও নেতৃত্ব দিয়েছেন,আবার একই সাথে নির্জনতার মধ্যেও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। নবুয়তের পূর্বেও তিনি মাঝে মাঝে নির্জনে সময় কাটাতেন এবং আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হতেন।নবুয়তের পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে তিনি মসজিদে এতেকাফ করতেন। এতেকাফ মানে শুধু মসজিদে অবস্থান করা না,বরং দুনিয়ার কোলাহল থেকে নিজেকে আলাদা করে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে মনোযোগ দেওয়া। সাহাবায়ে কেরামও রাসূল( সা.)এর এই আমলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। তারা বুঝেছিলেন, নির্জনতা কখনো অলসতা না বরং এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক মহৎ উপায়।হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল( সা.)প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। তাঁর ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত এই আমল অব্যাহত ছিল। শুধু তিনি নিজেই না, তাঁর সাহাবিরাও এতেকাফে বসতেন এবং এই আমলের ফজিলত মানুষকে বুঝিয়ে দিতেন।


 ডিপ ওয়ার্ক ও ইবাদতের একাগ্রতা 

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে একটি ধারণা আছে—গভীর মনোযোগের কাজ। অর্থাৎ মানুষ যখন সব ধরনের বিভ্রান্তি দূরে রেখে একাগ্রচিত্তে কোনো কাজে মনোযোগ দেয়, তখন তার কর্মক্ষমতা ও উপলব্ধি বহুগুণ বেড়ে যায়।ইসলামের দৃষ্টিতে এতেকাফ সেই গভীর মনোযোগের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে মানুষ মোবাইল, বাজার, কাজের ব্যস্ততা কিংবা দুনিয়ার নানা চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। তারপর কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেয়।যখন মন একাগ্র হয়, তখন ইবাদতের স্বাদও ভিন্ন হয়ে যায়। একটি আয়াত পড়ে মানুষ গভীরভাবে ভাবতে পারে, একটি দোয়া অন্তর থেকে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থাই ইবাদতের আসল সৌন্দর্য।


 নির্জনতা ও রবের সান্নিধ্যের মনোবিজ্ঞান 

মানুষের মন সব সময় ব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের দায়িত্ব, সামাজিক সম্পর্ক এবং নানা দুশ্চিন্তা মনকে ভারী করে তোলে। কিন্তু কিছু সময়ের নির্জনতা মানুষের অন্তরকে শান্ত করে।মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় বলা হয়, নিরিবিলি পরিবেশে মানুষের চিন্তা পরিষ্কার হয়, আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি হয় এবং অন্তরের গভীর অনুভূতি জাগ্রত হয়। ইসলামে এতেকাফ সেই সুযোগই তৈরি করে।যখন একজন মানুষ মসজিদের নির্জন পরিবেশে বসে কোরআন তিলাওয়াত করে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে এবং নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করে, তখন তার অন্তরে নতুন এক প্রশান্তি জন্ম নেয়। অনেক সময় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও এই নীরব মুহূর্তগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।



সব মানুষের পক্ষে পুরো দশ দিন এতেকাফ করা সম্ভব হয় না। কারও কাজ আছে, কারও পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে এখানে সামর্থ্য অনুযায়ী আমলের সুযোগ রাখা হয়েছে।কেউ যদি দশ দিন এতেকাফ করতে পারে, তা অবশ্যই উত্তম। কেউ যদি পাঁচ দিন বা তিন দিন সময় বের করতে পারে, সেটাও ভালো। আর যাদের পক্ষে দিনের সময় থাকা সম্ভব নয়, তারা অন্তত রাতের কিছু সময় মসজিদে থেকে নফল এতেকাফের নিয়তে ইবাদত করতে পারে।এতেকাফের ধরনও ভিন্ন ভিন্ন—ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল। যে ব্যক্তি যেটাতে সক্ষম, সে যদি আন্তরিকভাবে সেই অনুযায়ী নিয়ত করে, তাতেও অনেক সওয়াব ও কল্যাণ রয়েছে।



রমজানের শেষ দশক আমাদের সামনে এক বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। এই কয়েকটি রাত হয়তো পুরো বছরের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। যদি আমরা এই সময়টাকে একটু আলাদা করে দেখি, কিছুটা নির্জনে বসি, কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়াই এবং আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করি তাহলে এই সময়ই আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


হতে পারে এই রাতগুলোর কোনো একটিতে আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য দান করবেন। তাই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে ততটুকু চেষ্টা করুক। কয়েকটি রাত হলেও মসজিদে কাটানো, এতেকাফের নিয়ত করা এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজেকে সোপর্দ করা এই প্রচেষ্টাই হয়তো আমাদের রমজানকে সত্যিকার অর্থে সার্থক করে তুলবে। আল্লাহ পাক আমাদের তৌফিক দান করুন আমিন


 লেখকঃ মুফতি জালাল উদ্দিন জামালি 

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সরফরাজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সরফরাজ