ইরাকে সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হওয়া ছয় সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, নিহতরা হলেন- জন এ ক্লিনার, আরিয়ানা জি সাভিনো, অ্যাশলি বি প্রুইট, সেথ আর কোভাল, কার্টিস জে অ্যাংস্ট এবং টাইলার এইচ সিমন্স।তারা সবাই কেসি–১৫ মডেলের একটি সামরিক বিমানের ক্রু সদস্য ছিলেন। এই উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত ১২ মার্চ ইরাকে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে তারা নিহত হন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, বিমানটি হারানোর ঘটনায় শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর গুলিবর্ষণের মতো কোনো ঘটনায় ঘটেনি।
আরিয়ানা জি সাভিনো
ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি সাভিনো আলাবামার বার্মিংহামে অবস্থিত ৯৯তম এয়ার রিফুয়েলিং স্কোয়াড্রনে বর্তমান অপারেশনস বিভাগের প্রধান পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ইউনিটের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের ফ্লাইট কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন
জন অ্যালেক্স ক্লিনার
পাইলট জন অ্যালেক্স ক্লিনার চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেজর পদে পদোন্নতি পান। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার বার্মিংহামের বাসিন্দা এবং অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। আট বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবারে সাত মাস বয়সী যমজ সন্তান এবং দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
অ্যাশলি বি প্রুইট
টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলি বি প্রুইট ৯৯তম এয়ার রিফুয়েলিং স্কোয়াড্রনের অপারেশন বিভাগের সহকারী ফ্লাইট প্রধান এবং কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের প্রশিক্ষক বুম অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং কর্মজীবনে ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২৬ সালে চারবার বিদেশি মিশনে অংশ নেন।সেথ আর
সেথ আর কোভাল
সেথ আর কোভাল ছিলেন উড়োজাহাজের কমান্ডার এবং তার সামরিক সেবার অভিজ্ঞতা ছিল ১৯ বছর। তিনি পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। প্রথমে তিনি ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ২০১৭ সালে ওহাইও ইউনিটে যোগ দেন।
কার্টিস জে অ্যাংস্ট
পাইলট কার্টিস জে অ্যাংস্ট প্রায় ১০ বছর ধরে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। ২০১৫ সালের মে মাসে ওহাইও ন্যাশনাল গার্ডে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালে পাইলট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং ২০২৪ সালে পাইলট হিসেবে প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি বিশ্বজুড়ে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা, মালামাল ও যাত্রী পরিবহন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৫ ও ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে অংশ নেন তিনি।
টাইলার এইচ সিমন্স
ওহাইওর কলম্বাস শহরের বাসিন্দা টাইলার এইচ সিমন্স ছিলেন একজন বুম অপারেটর, যার দায়িত্ব ছিল জ্বালানি ট্যাঙ্কার উড়োজাহাজ থেকে অন্য উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করা। তিনি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দায়িত্ব পালন করতেন।
সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি
Mytv Online