পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাড়ির টানে ঘরে ফিরছেন মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কোনো ধরনের বড় ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই পারাপার হতে পারছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহন তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। দুপুর ১২টার দিকে ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসেন সুলতানা আক্তার ও মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
পরিদর্শনকালে তারা বাস কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট পরিদর্শন করে নিরাপদ পারাপারের বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ঘাট এলাকায় বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাক ও ডিবি পুলিশও কাজ করছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ এবং ঘাটে নৌপুলিশ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে, যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ যেকোনো অনিয়ম রোধ করা যায়।
তিনি আরও জানান, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট এবং মাতৃদুগ্ধ কর্নারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি যানবাহনের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান রাখা ও সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি। ঘাট এলাকায় যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Mytv Online