পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে তার দেশের পক্ষ থেকে সক্রিয় মধ্যস্থতা করার জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সমন্বয়ে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। শেহবাজ শরীফ উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোতে চলমান প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখতে একটি যৌথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
ইসলামাবাদে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন শেহবাজ শরীফ। বৈঠকে দেশগুলোর নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধনশীল সংকট এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে যে পরিমাণ মানবিক ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসা পাকিস্তান এখন সেই ভূমিকাকে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছে। শেহবাজ শরীফের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এবং সরাসরি সংলাপ শুরু করতে পাকিস্তান একটি বিশ্বস্ত সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।
সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন এই প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ইতিবাচক সাড়ার ওপর। বিশেষ করে যখন দুই দেশই সামরিকভাবে একে অপরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে।
সার্বিকভাবে পাকিস্তানের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার একটি নতুন পথ দেখাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শেহবাজ শরীফ তার বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বের সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং ধ্বংসাত্মক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার খাতিরেও এই দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়া জরুরি। আপাতত ইসলামাবাদের এই শান্তি মিশনটি বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটন এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ।
সূত্র: বিবিসি।
Mytv Online