মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে এবং এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ৮৪ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ২.৯ শতাংশ বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে এই অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল মাত্র ৭২ ডলারের কাছাকাছি, সেখানে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথগুলোতে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় তেলের দামে এই উল্লম্ফন ঘটেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার মূল কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা সরাসরি যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে পড়ছে।
এছাড়া লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলো তেলের বাজারে আগুনের মতো কাজ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সারা বিশ্বে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস দেশগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে। তবে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক গতিপথ যতক্ষণ পর্যন্ত শান্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি।
Mytv Online