কাপাসিয়ায় হত্যার শিকার পাঁচজনকে পাশাপাশি কবরে সমাহিত 

আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৪:১৮:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৪:১৮:২৬ অপরাহ্ন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় হত্যার শিকার গৃহবধূ, তার তিন কন্যা ও গৃহবধূর ভাইয়ের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে রবিবার সকাল ৬টার দিকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার সকালে কাপাসিয়ার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাসা থেকে গলা কাটা অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম, তাদের বড় কন্যা ১৫ বছরের মীম খানম, মেজো কন্যা ৮ বছরের উম্মে হাবিবা, ছোট কন্যা ২ বছরের ফারিয়া এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া।

শারমিনের চাচা মো. উজ্জ্বল বলেন, ফোরকানের ছোট ভাই মিশকাত ঢাকার উত্তরা থাকেন। শনিবার সকালে মিশকাতকে সে ফোন দিয়ে বলে ‘সবগুলারে মাইরা ফালাইছি, আমারে আর পাবি না।’ এরপর থেকেই ফোরকানের ফোন বন্ধ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফোরকান পালিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। তাকে ধরা গেলে রহস্য উন্মোচন হবে।

শারমিনের মামা আরজ শেখ গণামাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা গাজীপুরে যাই। গিয়ে দেখি নির্মমভাবে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। শারমিনকে জানালার গ্রিলের সাথে বেঁধে হত্যা করা হয়েছে। এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা খুনি ফোরকানের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

মামাতো ভাই আবির শেখ বলেন, আমার ফুফাতো বোন, ভাই ও তিন শিশুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা চাই দ্রুত খুনিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।

শারমিনের এক দুলাভাই বলেন, আমরা গিয়ে দেখি রসুলের মরদেহ খাটের ওপর ছিল। শিশুদের মরদেহ পড়ে ছিল মেঝেতে। আমরা জেনেছি, সেদিন রাতে বাসায় গোশত ও পায়েস রান্না হয়েছিল। আমদের মনে হচ্ছে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত শারমিন বেগমের বাবা সাহাদত মোল্লা কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শারমিনের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘাতককে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
 
 
 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com