গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কুকুরের কামড়ে মাত্র এক সপ্তাহে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত রয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরও ৯ জন। তাদের মধ্যে ওই এলাকার সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯) নামে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই ঘটনায় একের পর এক মৃত্যুর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে পুরো গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সর্বশেষ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরুজা বেগম (৪০)। গত ২২ এপ্রিল থেকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কুকুরটি প্রায় ১৩ জনকে কামড় দিয়েছে। মৃত আফরোজা বেগম উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে (বাদ জোহর) তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।মৃত বাকি তিনজন হলেন, কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২) ও রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। তাদের মধ্যে রতনেশ্বর বর্মণ পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোকা বর্মণের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে কুকুরের কামড়ের শিকার হন রতনেশ্বর।
এছাড়া আহতরা হলেন, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন।একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্য বিবরণীটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ১৩ জন আহত হন।স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক একটি কুকুর যেন তান্ডব চালায়। এদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ১৩ জনকে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করে। অধিকাংশের মুখমন্ডলে কামড়ের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আহতরা সবাই বিভিন্নস্থান থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরপরও কারো কারো অবস্থা গুরতর হলে তাদের চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে ৬ মে প্রথম মারা যান ওই গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫) ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া। এর দুই দিন পর ৮ মে মারা যান পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার রাজমিস্ত্রী রতনেশ্বর বর্মণ। সর্বশেষ ১২ মে আফরুজা বেগমের মৃত্যু হয়।মৃত আফরোজা বেগমের স্বামী মতিয়ার রহমান বলেন, সর্বশেষ গতকাল রাতে তাকে রংপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমরা তাকে তিন দিন নিয়ে গেছি। ১২ তারিখ সকালে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, ২২ এপ্রিল আমার স্ত্রীকে পাগলা কুকুর কামড়িয়ে জখম করে দেয়। ক্ষতটা অনেক বড় ছিল, আমরা আতঙ্কিক হয়ে পড়ছিলাম। সেদিন আমরা আহত আরো ৪/৫ জন মিলে সরাসরি রংপুর মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে বাইরে থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে ইনজেকশন দেই। বাইরে থেকে কিনে (ভ্যাকসিন) দিয়েছি। কি হয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন।
মৃত ফুলমিয়ার স্ত্রী জমিলা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মুখের মধ্যে কামড় দিয়েছিল। ২২ তারিখ ১১টার দিকে গাইবান্ধা হাসপাতালে বাইরে থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে কিনে র্যাবিস ইনজেকশন দিয়েছিলাম। তারপর ২৫ তারিখ এবং ২৯ তারিখ তারা সেখানে ফ্রি ইনজেকশন দিয়েছে। তাদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খাচ্ছিলাম। পরে ৬ তারিখ অসুস্থ বেশি হলে আমরা রংপুরে নিয়ে যাই, ২টার দিকে ভর্তি করি। রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।নিহত নন্দ রানীর ছেলে কনক চন্দ্র বর্মণ বলেন, মা ওইদিন সকালে পাশের বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তায় তাকে পাগল কুকুর মুখে কামড় দেয়। পরে আমরা তাকে রংপুরে নিয়ে যাই। সেখান থেকে এসে বাড়িতে মারা যান।আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, আমার মায়ের অবস্থা অনেক খারাপ। তিন দিন থেকে কিচ্ছু খায় না। শুধু পানি আর একটু করে জুস খায়।
আল আমিন জানান, তার মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দিয়েছিল। ওই দিন ১২টার পর গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মাকে হাসপাতালে নিতে বলেছেন কিন্তু আমরা নেব না। কারণ সামনের বাড়ির একজন তিন দিন হাসপাতালে থেকে মারা গেছেন।কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, একদিনে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে আজ পর্যন্ত চারজন মারা গেলেন। শুধু একজন ছাড়া সবাই সঠিক নিয়মে টিকা নিয়েছেন। তারপরেও এমন মৃত্যুতে আহত ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে। এ সময় তিনি তার এলাকার এসব গরিব নিহত ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।গাইবান্ধার সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, যেহেতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই টিকা নিয়েছেন। তারপরও মৃত্যু ঠেকান যাচ্ছে না। সেহেতু অবশ্যই বিষয়টি গুরুতের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ঢাকা পোস্টকে বলেন, যারা মারা গেছেন ইতোমধ্যে তিনজনের পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগের যে সহায়তা সেটা দেওয়া হয়েছে। আহতদেরও দেওয়া হবে।গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান জানান, কুকুর ঠেকানোর দায়িত্ব প্রাণিসম্পদের। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ের পর কেউই চিকিৎসা নিতে যাননি। সেখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা করবে। যেসব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আমাদেরতো ভ্যাকসিন নেই।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান (এমপিএইচ) ঢাকা পোস্টকে বলেন, জানা দরকার তারা সঠিক সময়ে এবং ঠিকমতো ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা। এটা জাস্টিফাই করা দরকার। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখেন। তাদের টিমও আছে। ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কি-না সেটাও দেখা দরকার।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সর্বশেষ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরুজা বেগম (৪০)। গত ২২ এপ্রিল থেকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কুকুরটি প্রায় ১৩ জনকে কামড় দিয়েছে। মৃত আফরোজা বেগম উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে (বাদ জোহর) তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।মৃত বাকি তিনজন হলেন, কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২) ও রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। তাদের মধ্যে রতনেশ্বর বর্মণ পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোকা বর্মণের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে কুকুরের কামড়ের শিকার হন রতনেশ্বর।
এছাড়া আহতরা হলেন, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন।একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্য বিবরণীটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ১৩ জন আহত হন।স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক একটি কুকুর যেন তান্ডব চালায়। এদিন অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ১৩ জনকে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করে। অধিকাংশের মুখমন্ডলে কামড়ের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আহতরা সবাই বিভিন্নস্থান থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরপরও কারো কারো অবস্থা গুরতর হলে তাদের চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে ৬ মে প্রথম মারা যান ওই গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫) ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া। এর দুই দিন পর ৮ মে মারা যান পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার রাজমিস্ত্রী রতনেশ্বর বর্মণ। সর্বশেষ ১২ মে আফরুজা বেগমের মৃত্যু হয়।মৃত আফরোজা বেগমের স্বামী মতিয়ার রহমান বলেন, সর্বশেষ গতকাল রাতে তাকে রংপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমরা তাকে তিন দিন নিয়ে গেছি। ১২ তারিখ সকালে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, ২২ এপ্রিল আমার স্ত্রীকে পাগলা কুকুর কামড়িয়ে জখম করে দেয়। ক্ষতটা অনেক বড় ছিল, আমরা আতঙ্কিক হয়ে পড়ছিলাম। সেদিন আমরা আহত আরো ৪/৫ জন মিলে সরাসরি রংপুর মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে বাইরে থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে ইনজেকশন দেই। বাইরে থেকে কিনে (ভ্যাকসিন) দিয়েছি। কি হয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন।
মৃত ফুলমিয়ার স্ত্রী জমিলা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মুখের মধ্যে কামড় দিয়েছিল। ২২ তারিখ ১১টার দিকে গাইবান্ধা হাসপাতালে বাইরে থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে কিনে র্যাবিস ইনজেকশন দিয়েছিলাম। তারপর ২৫ তারিখ এবং ২৯ তারিখ তারা সেখানে ফ্রি ইনজেকশন দিয়েছে। তাদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ খাচ্ছিলাম। পরে ৬ তারিখ অসুস্থ বেশি হলে আমরা রংপুরে নিয়ে যাই, ২টার দিকে ভর্তি করি। রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।নিহত নন্দ রানীর ছেলে কনক চন্দ্র বর্মণ বলেন, মা ওইদিন সকালে পাশের বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তায় তাকে পাগল কুকুর মুখে কামড় দেয়। পরে আমরা তাকে রংপুরে নিয়ে যাই। সেখান থেকে এসে বাড়িতে মারা যান।আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, আমার মায়ের অবস্থা অনেক খারাপ। তিন দিন থেকে কিচ্ছু খায় না। শুধু পানি আর একটু করে জুস খায়।
আল আমিন জানান, তার মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দিয়েছিল। ওই দিন ১২টার পর গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মাকে হাসপাতালে নিতে বলেছেন কিন্তু আমরা নেব না। কারণ সামনের বাড়ির একজন তিন দিন হাসপাতালে থেকে মারা গেছেন।কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, একদিনে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে আজ পর্যন্ত চারজন মারা গেলেন। শুধু একজন ছাড়া সবাই সঠিক নিয়মে টিকা নিয়েছেন। তারপরেও এমন মৃত্যুতে আহত ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে। এ সময় তিনি তার এলাকার এসব গরিব নিহত ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।গাইবান্ধার সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, যেহেতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই টিকা নিয়েছেন। তারপরও মৃত্যু ঠেকান যাচ্ছে না। সেহেতু অবশ্যই বিষয়টি গুরুতের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ঢাকা পোস্টকে বলেন, যারা মারা গেছেন ইতোমধ্যে তিনজনের পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগের যে সহায়তা সেটা দেওয়া হয়েছে। আহতদেরও দেওয়া হবে।গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান জানান, কুকুর ঠেকানোর দায়িত্ব প্রাণিসম্পদের। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ের পর কেউই চিকিৎসা নিতে যাননি। সেখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা করবে। যেসব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আমাদেরতো ভ্যাকসিন নেই।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান (এমপিএইচ) ঢাকা পোস্টকে বলেন, জানা দরকার তারা সঠিক সময়ে এবং ঠিকমতো ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা। এটা জাস্টিফাই করা দরকার। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখেন। তাদের টিমও আছে। ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কি-না সেটাও দেখা দরকার।