দড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ায় ১৩শ কেজির ‘নেইমার

আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:৫৫:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০১:৫৫:১৩ অপরাহ্ন
সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানিকে কেন্দ্র করে যশোরের বিভিন্ন খামারে চলছে গরুর পরিচর্যার ব্যস্ততা। এরই মধ্যে অভয়নগর উপজেলার দুটি পারিবারিক খামারের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটির নাম ‘নেইমার’, অন্যটির নাম ‘ঠাণ্ডা ভোলা’।



উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাড়ের খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে প্রায় ৩৫ মণ ওজনের ‘নেইমার’ নামের একটি ষাঁড়। মাথার সামনের চুলের বিশেষ আকৃতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় শখ করে এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান খামারি।দেবু পাড়ে বলেন, ফ্লেকভি জাতের ষাঁড়টির বর্তমান ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার লাগে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদ চালের ভাত।তিনি আরও জানান, তাদের খামারে বড়-ছোট মিলিয়ে মোট ছয়টি গরু রয়েছে। তবে বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে ‘নেইমার’ সবার নজর কাড়ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন।



খামারি দেবু পাড়ে বলেন, এখনও ভালো দাম পাইনি, তাই বিক্রি করিনি। আশা করছি ঈদের আগেই কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে পারব। যারা কিনতে আগ্রহী তারা বাড়িতে এসে গরু দেখে দাম আলোচনা করতে পারেন। তিনি আরও জানান, পরিবারের সবাই দিন-রাত পরিশ্রম করে গরুটির পরিচর্যা করছেন। এবার কোরবানির হাটে নেইমার ভালো দামেই বিক্রি হবে বলে তার প্রত্যাশা।



স্থানীয়রা জানান, এত বড় গরুকে দড়ি ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখা সত্যিই বিস্মিত হয়েছেন তারা। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টির দেখাশোনায় দেবুর সবচেয়ে বড় সহায়ক তার মা ইতি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন করি। বিক্রি হলে মন খারাপ হবে, কিন্তু সংসারের প্রয়োজনেই শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে হবে।এদিকে ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির ওজন ও সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।



স্থানীয় খামারি সুদিপ মন্ডল বলেন, এবারের কোরবানির হাটে ১৩শ কেজির এই ষাঁড়টি অন্যতম আকর্ষণ হবে। আরেক খামারি কানু বিশ্বাস বলেন, ষাঁড়টির গঠন ও সৌন্দর্য দুটোই চমৎকার। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি হবে।এদিকে একই উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ফুলেরগাতী গ্রামে চার বছর ধরে প্রসেনজিৎ রায়ের পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠছে ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ নামের আরেকটি বিশাল ষাঁড়। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১৬শ কেজি বলে দাবি খামারির।প্রসেনজিৎ রায় জানান, বর্তমানে তার খামারে একটি ষাঁড় রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৭শ টাকার খাবার দিতে হয় ‘ঠাণ্ডা ভোলা’কে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে নিজস্ব মিলের খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদের ভাত।তিনি বলেন, গত বছর ভালো দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। তবে এবার ঈদের আগেই কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা গরুটি দেখতে আসছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, এত বড় আকারের গরু এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। ফলে খামার দুটিতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ছে।



যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক খামারি পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকারের গরু প্রস্তুত করেছেন। হাটে উঠতে এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও অভয়নগরের ‘নেইমার’ ইতোমধ্যেই কোরবানির বাজারে অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।

 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com