বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে তারা নিজেদের দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ।
খেলোয়াড়দের পরিচিত ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে স্থানীয় খাবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়েছে নরওয়ে। দলটির বিশ্বাস, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে মানসম্মত ও পরিচিত খাদ্যের বিকল্প নেই।
খাদ্য ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য নরওয়ের দুই খ্যাতনামা শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতেকেও দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। তারা খেলোয়াড়দের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করছেন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান।
নরওয়ের শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড জানান, দেশ থেকে প্রায় আধা টন খাদ্যসামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সহজ কাজ ছিল না। তবে নরওয়েজিয়ান খাদ্যপণ্যের গুণগত মানের ওপর আস্থা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ মানের খাবার পাক। যদি আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি খাবারে ব্যবহৃত টমেটো কোন কৃষক উৎপাদন করেছেন কিংবা মাছটি কোথা থেকে এসেছে, তাহলে সেটি আমাদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের বিষয়। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়েই খেলোয়াড়দের খাবার প্রস্তুত করতে চাই।”
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, আধুনিক ফুটবলে পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা এখন কৌশলগত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, আর নরওয়ে সেই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। শেষবার তারা ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল। এবার বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের আগেই তাদের খাদ্য প্রস্তুতি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।