পকেটে মাত্র ৩০০ রুপি নিয়ে বেঙ্গালুরু আসা যশ এখন ৪ হাজার কোটির সিনেমার প্রযোজক

আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৯:৫১:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৯:৫১:৫৯ অপরাহ্ন
একসময় মাত্র ৩০০ টাকা সম্বল করে বাড়ি ছেড়েছিলেন। রাতের পর রাত কাটিয়েছেন বেঙ্গালুরুর ফুটপাতে। সেই নবীন কুমারই আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ তারকা ‘রকি ভাই’ খ্যাত যশ। সদ্য ৪০ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেতা এখন শুধু পর্দায় নয়, চার হাজার কোটি রুপি বাজেটের বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ সিনেমার সহ-প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন।

কন্নড় চলচ্চিত্রকে ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আঙিনায় তুলে ধরার অন্যতম কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয় যশকে। তার অভিনীত ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১’ প্রথম কন্নড় সিনেমা হিসেবে বক্স অফিসে ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে এবং আড়াইশ কোটি রুপি আয় করে। এর সিক্যুয়েল ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে এক হাজার কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই মাইলফলক স্পর্শ করা মাত্র ৯টি সিনেমার মধ্যে এটি অন্যতম। এই ধারাবাহিকতায় এখন তার দুটি বড় প্রকল্প নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। এর একটি হলো গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’, যা ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যটি নিতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় ‘রামায়ণ’, যেখানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সহ-প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এই তারকার বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি রুপি। প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। বেঙ্গালুরুর এক অভিজাত এলাকায় ডুপ্লেক্স বাড়িতে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত, দুই সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে তার বসবাস। গ্যারেজে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো বিলাসবহুল গাড়ি।

যশের এই তারকাদ্যুতি রাতারাতি আসেনি। কর্ণাটকের এক সাধারণ পরিবারে তার জন্ম। বাবা অরুণ কুমার ছিলেন সরকারি বাসচালক। একসময় তার দৈনিক আয় ছিল মাত্র ১৪ টাকা। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তীব্র ঝোঁক ছিল যশের। কিন্তু পরিবার এই স্বপ্নকে সহজে মেনে নেয়নি। অবশেষে নিজের স্বপ্ন পূরণে মাত্র ৩০০ টাকা পকেটে নিয়ে বেঙ্গালুরু শহরে পাড়ি জমান তিনি। শুরুতে কোনো পরিচিতি বা কাজ না থাকায় পুলিশের তাড়ায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচেও রাত কাটাতে হয়েছে তাকে।

বেঙ্গালুরুতে টিকে থাকার সেই দিনগুলো প্রসঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণা করে যশ জানিয়েছিলেন, পকেটে মাত্র ৩০০ টাকা থাকায় তিনি জানতেন ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পরিবার থেকে তাকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, অভিনয়ে সফল না হলে তাদের পছন্দমতো পেশাই বেছে নিতে হবে। শহরে টিকে থাকতে থিয়েটার পাড়ায় কাজ শুরু করেন তিনি। সে সময় মঞ্চের পেছনে চা দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজই করেছেন। পরবর্তীতে পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করার পর টেলিভিশন নাটকে সুযোগ পান। অবশেষে ২০০৭ সালে ‘জামবাদা হুদুগি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়।

খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছালেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি যশ। কোটিপতি তারকার বাবা হওয়ার পরও তার বাবা দীর্ঘদিন বাসচালকের পেশা চালিয়ে গেছেন। বাবার এই কর্মনিষ্ঠা ও আত্মসম্মানবোধ যশকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সমাজসেবায়ও সমানভাবে সক্রিয়। ২০১৭ সালে স্ত্রীর সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘যশো মার্গ ফাউন্ডেশন’। এই সংস্থার মাধ্যমে কোপ্পাল জেলার তাল্লুর হ্রদ সংস্কারের পাশাপাশি খরাকবলিত কালাবুরাগী ও বিজয়পুরার অন্তত ৫০টি গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছেন এই তারকা।


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com