বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

আপলোড সময় : ১৩-০৭-২০২৬ ০৪:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৭-২০২৬ ০৪:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন
বন্যাকবলিত দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও অতিরিক্ত মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে যোগাযোগ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, একটি হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়লে রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলাকে বন্যাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ ও বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ নম্বর এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই বন্যার কারণে যেন একজন মানুষও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারান। এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। সূত্র: ঢাকা পোস্ট
 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com