রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র আজ বিকেল চারটার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। আজ বেলা ১১টার দিকে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০। ফলে সংসদে ভোট হলে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন সমীকরণই এখন সামনে এসেছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
দলের দীর্ঘদিনের মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সময়ে ছয়বার কারাগারেও যান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।