ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো সেই লেখকের ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার

আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন
‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। আর্থিক সাফল্যের কৌশল শেখানোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের সঙ্গে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ জড়িত বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৭৯ বছর বয়সী কিয়োসাকি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তার বিপুল ঋণের কথা বলে আসছেন। তার দাবি, আয় তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার জন্য ঋণ নেওয়া ধনী ব্যক্তিদের ব্যবহৃত একটি কৌশল।

সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ পডকাস্টে কিয়োসাকি বলেন, ‘আমি ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণে আছি।’ তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমি যা করি, আপনারা তা করবেন না।’ 

বে কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকি জানিয়েছেন, ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের অঙ্কটি নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি রবার্ট কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়।

‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান, অংশীদারদের সঙ্গে তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব সম্পত্তির বিপরীতে বিপুল ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে ঋণের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার হলেও এর খুব সামান্য অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়োসাকির বিনিয়োগ কৌশলের কারণেই এই বিপুল ঋণের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই বর্ধিত মূল্যের বিপরীতে আরও ঋণ নেন। সম্পত্তি বিক্রি না করে ঋণ নেওয়ায় এই অর্থ সাধারণত করমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া কিয়োসাকি তার বিভিন্ন বিনিয়োগ আলাদা আলাদা ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসির অধীনে রাখেন। ফলে কোনো একটি বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দিলে অন্য সম্পদগুলোকে তার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

নিজের এই কৌশল সম্পর্কে কিয়োসাকি বলেন, সবকিছু যদি ‘নরকে’ও চলে যায়, তাহলে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ধনীরা এভাবেই ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি করে বিনিয়োগ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর হিসাব অনুযায়ী, কিয়োসাকি বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার আয় করেন। এই হিসাব সঠিক হলে মোট ঋণের মধ্যে তার ব্যক্তিগত অংশ আনুমানিক ৩ থেকে ৬ কোটি ডলার হতে পারে।

‘ট্যাক্স মাভেরিক এআই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী ডেভিড এ. পেরেজ কিয়োসাকির কৌশলকে ‘ভালো কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সম্পত্তির বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অস্বাভাবিক নয়। তবে এতে বন্ধকের কিস্তি ও সুদের খরচ বাড়তে পারে এবং নগদ প্রবাহ কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে ‘জেপিটিডি পার্টনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা জন পুল আরও সতর্ক করে বলেন, ঋণ ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। তবে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একজনকে অবশ্যই জানতে হবে তিনি কী করছেন।

তার মতে, ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগের কৌশল সম্পদের মূল্য বাড়ার সময় ভালো কাজ করে। কিন্তু সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমে গেলে এটি ভয়াবহ আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রবার্ট কিয়োসাকি ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইকে কেন্দ্র করে বিশাল আর্থিক শিক্ষা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশিত বইটি বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ জানিয়েছে।

বইটিতে কিয়োসাকি তার নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ এবং শৈশবের বন্ধুর বাবাকে ‘রিচ ড্যাড’ হিসেবে তুলে ধরে অর্থ ও বিনিয়োগ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করেছেন।

কিয়োসাকি দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেটের মতো আয়-উৎপাদনকারী সম্পদে বিনিয়োগ, কর কমানো এবং বিনিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে নেওয়া ঋণের মধ্যে পার্থক্য করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com