ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করল বাংলাদেশ

আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৯:৪১:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৯:৪১:০৩ অপরাহ্ন
ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। মৎস্য অধিদফতরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বাতিল করায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল মৎস্য অধিদফতর। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ টন ইলিশ এসেছে। আমদানি করা ইলিশের পুরোটাই ভারতের গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে এসেছে বলে মৎস্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মাছ আমদানি-রফতানির অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব মৎস্য অধিদফতরের। ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মৎস্য অধিদফতরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। এরপর নির্দেশ দিয়েছি, আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া যাবে না। ভারত থেকে বাংলাদেশে আর একটি ইলিশও আসবে না।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, এনওসি বাতিলের বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের চিঠি তারা পেয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে আকস্মিকভাবে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ১০৩টি এনওসি বাতিলের আনুষ্ঠানিক চিঠি গত বুধবার তারা পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বন্ধ করা হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেড়েছিল। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে তারা জানান। পরে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে মাছ খালাস করা হয়েছে।

ইলিশ আমদানির ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের আশঙ্কা, বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির ঘটনা দেশের ইলিশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার মতে, ইলিশের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাছের ক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানি- দুই ক্ষেত্রেই জাতীয় নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের ইলিশ বিদেশে রপ্তানির জন্য তৎপর হন, আবার কখনো আহরণের ঘাটতির কথা বলে আমদানির উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে মানুষের ইলিশের চাহিদার পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মুনাফার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে। ইলিশের মতো মাছের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নীতি থাকা দরকার।
 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com