যে  ৯ টি  ভয়াবহ পাপের শাস্তি  দুনিয়াতেই  হয়

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৩:৫৭:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৩:৫৭:১১ অপরাহ্ন
সব পাপের শাস্তি যে কেবল পরকালেই হবে এমন নয়, কিছু অপরাধ রয়েছে যার করুণ পরিণতি মানুষকে দুনিয়াতেই ভোগ করতে হয়। বাবা-মার সাথে অসদাচরণ, জুলুম, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা কিংবা ব্যবসায় প্রতারণার মতো ভয়াবহ ৯টি পাপের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে ভোগ না করিয়ে মৃত্যু দেন না।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট প্রমাণের আলোকে এই অপরাধগুলো এবং এর পার্থিব পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মা-বাবার অবাধ্যতা
মা-বাবার সাথে বেয়াদবি,তাদের অসম্মান করা বা তাদের অধিকার খর্ব করার প্রায়শ্চিত্ত দুনিয়াতে ভোগ করা ছাড়া মৃত্যু হয় না।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
"তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।" (সূরা আল-ইসরা:২৩)

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 كُلُّ الذُّنُوبِ يُؤَخِّرُ اللَّهُ مِنْهَا مَا شَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا عُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ، فَإِنَّهُ يُعَجِّلُهُ لِصَاحِبِهِ فِي الْحَيَاةِ قَبْلَ الْمَمَاتِ
আল্লাহ তাআলা বান্দার সমস্ত গুনাহ ইচ্ছা করলে কিয়ামত পর্যন্ত স্থগিত রাখেন,
তবে পিতা-মাতার অবাধ্যতার গুনাহ ব্যতীত।তিনি পিতা-মাতার অবাধ্যতাকারীকে মৃত্যুর আগেই দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে থাকেন।" (শাইবুল ঈমান - বায়হাকী: ৭৯৪০)

২. জুলুম
কারো ওপর গায়ের জোর খাটানো করার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দেন।
মাজলুম ব্যক্তি যদি অন্য ধর্মেরও হয়,তবুও আল্লাহ তার ডাকে সাড়াদান এবং জালেমকে পাকড়াও করেন। 
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
  وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ
"আর জালেমদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তুমি আল্লাহকে কখনোই গাফিল মনে করো না।" 
(সূরা ইব্রাহিম:৪২)

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ وَإِنْ كَانَ كَافِرًا، فَإِنَّهُ لَيْسَ دُونَهَا حِجَابٌ
মাজলুমের অভিশাপকে ভয় করো,এমনকি সে যদি কাফেরও হয়।
কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।" (মুসনাদে আহমাদ:১২৫৭)

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি ভয়াবহ অপরাধ।
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ,أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ
"ক্ষমতায় আসীন হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের ওপরই আল্লাহ অভিশাপ করেন।"
(সূরা মুহাম্মদ:২২-২৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع "
 আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"(সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪)
 
৪. কথায় কথায় মিথ্যা বলা এবং আমানতের খেয়ানত করা
মিথ্যাবাদিতা ও আমানতের খেয়ানতকারীদের জীবনে আল্লাহ কখনো বরকত দেন না এবং দুনিয়াতেই তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না, যে সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদী।"
(সূরা গাফির: ২৮)

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 آيَةُ المُنَافِقِ ثَلاَثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে বরখেলাপ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে।" (সহিহ বুখারি: ৩৩)

৫. মানুষকে অপমান ও অপদস্ত করা
 সারসংক্ষেপ: অন্যকে নিয়ে ট্রল করা, রাগিং বা অপমান করা একটি মারাত্মক অপরাধ।
যে ব্যক্তি অন্যকে অপমান করে, সে নিজেও কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে অপমানিত হবেই।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ
 "হে ঈমানদারগণ! কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষকে উপহাস না করে,
 হতে পারে সে তাদের চেয়ে উত্তম।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১১)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ: دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ
প্রত্যেক মুসলিম অন্য মুসলিমের ওপর রক্ত, ধন-সম্পদ ও সম্মান হরণ করা হারাম।"
 (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪)

৬. লোকদেখানো ইবাদত (রিয়া)
মানুষের প্রশংসা বা সামাজিক মাধ্যমে লাইক-কমেন্টের আশায় কোনো ভালো কাজ করা বা দান-সদকা করা লৌকিকতা।এদের আমলের কোনো সওয়াব তো থাকেই না, উল্টো দুনিয়াতে লাঞ্ছনা অপেক্ষা করে।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ , الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ , الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
"অতএব দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য,যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে গাফিল, যারা তা লোকদেখানোর জন্য করে।"(সূরা আল-মাউন, আয়াত: ৪-৬)

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ، قَالُوا: وَمَا الشِّرْكُ الأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الرِّيَاءُ
আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই,তা হলো ছোট শিরক।
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কী?
 তিনি বললেন:রিয়া বা লোকদেখানো আমল।" (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৬৮০)

৭. নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা
আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ভোগ করে শুকরিয়া আদায় না করলে কিংবা উপকারকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ না হলে আল্লাহ সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেন এবং জীবনে অভাব-অনটন ও ভয় গ্রাস করে।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
"যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব;আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।"
(সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّهَ
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও অকৃতজ্ঞ।"(জামে তিরমিজি: ১৯৫৫)

৮. ব্যবসায় প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়া
 মাপে কম দেওয়া বা ভালো মালের নিচে পচা মাল লুকিয়ে রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। প্রতারক বিক্রেতারা পার্থিব সম্পদে বরকত পায় না এবং অশান্তিতে ভোগে।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
  وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ , الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ , وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
"দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদেরকে মেপে বা ওজন করে দেয়,তখন কমিয়ে দেয়।" (সূরা আল-মুতাফফিফীন: ১-৩)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 
 مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
যে ব্যক্তি(ব্যবসায় বা লেনদেনে) আমাদের সাথে প্রতারণা করে,সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১০১)

৯. আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা
যে কোনো ধরনের পাপ বা আল্লাহর বিধানের অবাধ্যতার একটি বড় শাস্তি হলো মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন,যা অনেক সময় মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ তা’আলা বলনে,
 وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا
"আর যে আমার জিকির (স্মরণ ও বিধান) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে,
তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত (মানসিক অশান্তিময়)।" (সূরা ত্বাহা, আয়াত: ১২৪)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
 مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ، فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে হত্যা করবে,সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল নিজের শরীরকে সেভাবে আছড়ে ফেলতে থাকবে।" (সহিহ বুখারি: ৫৭৭৮)
 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com