প্লেগে রাশিয়ায় গবেষকের মৃত্যু: কোয়ারেন্টিনে কয়েকশ, ৫ হাসপাতাল বন্ধ

আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৫:১১:৫২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৫:১১:৫২ অপরাহ্ন
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার দূরবর্তী ইারকুতস্ক অঞ্চলে ২৮ বছর বয়সি এক ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শত শত মানুষকে রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।

শেলেখোভের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ওই টেকনিশিয়ানের নাম দারিয়া শিপিলোভা। একটি ভাঙা টেস্টটিউব থেকে তিনি অত্যন্ত সংক্রামক নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই রোগ মারাত্মক হতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াবাহী একটি টেস্টটিউব দুর্ঘটনবসত ভেঙে ফেলার কথা তিনি চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে তাকে শেলেখোভের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয় এবং ১ অক্টোবর তিনি মারা যান।

তার সংস্পর্শে আসা দুই শতাধিক মানুষকে এরই মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইারকুতস্ক অঞ্চলে সব ধরনের জনসমাগম ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

ইারকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ প্রথমে জানিয়েছিলেন যে, সেখানে ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক সংক্রমণের’ একটি সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং তিনি জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তবে গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি নিশ্চিত করেন যে, এটি মূলত অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার একটি ঘটনা।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘রোগীর নমুনা থেকে তার পেশাগত কাজের সাথে জড়িত কোনো ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও জানান, গত ১০ দিনের মধ্যে ওই ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মীর মধ্যে সংক্রামক রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

‘রোগীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে, পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিদিনের ল্যাব টেস্টসহ তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন,’ বলেন তিনি।

জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয় করার জন্য কনজুমার সেফটি ওয়াচডগ ‘রোস্পোট্রেবনাতজর’-এর প্রধানের সাথে বৈঠক করেছেন বলে গত ২ অক্টোবর জানান গভর্নর কোবজেভ। তিনি বলেন, ‘রোস্পোট্রেবনাতজর পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় মহামারি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

এদিকে রাশিয়ার বুরিয়াতিন অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদভ গত ২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পার্শ্ববর্তী ইারকুতস্ক অঞ্চলে এক নারী ‘সম্ভবত প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন’। তবে তার নিজের অঞ্চলে প্লেগের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি।

নিউমোনিক প্লেগ কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুস-কেন্দ্রিক নিউমোনিক প্লেগ হলো প্লেগের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ।

সংক্রমিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও তীব্র কাশি, যার সাথে প্রায়ই রক্তমিশ্রিত কফ বের হয়।

ইনকিউবেশন বা সুপ্তিকাল মাত্র ২৪ ঘণ্টার হতে পারে এবং নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত যে কেউ শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ‘নিউমোনিক প্লেগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা না করালে তা মারাত্মক হতে পারে।’

তবে সময়মতো- বিশেষ করে লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com