সারাদিনের খাটুনি শেষে ঘরে ফিরে যখন দেখেন- সন্তান হাত থেকে ফোনটা নামাচ্ছে না, বারবার ডাকার পরও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই, চোখের দৃষ্টি স্ক্রিনের রঙিন আলোয় বন্দি; তখন বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। মনটা বিষিয়ে যায় এক অজানা ভীতি আর ক্লান্তিতে।
এখনকার সময়টাই যে বড় নিষ্ঠুর। চারপাশে ফিতনার এত ছয়লাভ!
চাইলেও আজ সন্তানকে এতকিছু থেকে আগলে রাখা যায় না।
প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া আর রঙিন সব ফিতনার মায়াজাল নিঃসন্দেহে আমাদের সন্তানদের মনোজগতকে গিলে খাচ্ছে। বাবা-মা হিসেবে এই অসহায়ত্বটা সত্যিই বড় অসহনীয়।
ক্ষোভের বিস্ফোরণ নাকি বিষাক্ত তীরের আঘাত? গভীর এই ভয়ের মুহূর্তে আমরা ঠিক কী করি? ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। মেজাজ চড়ে যায়, শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি।কখনো কখনো রাগের চোটে জিভ পিছলে"তুই জাহান্নামে যা!", "তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না!"এমন সব অভিশাপ বাক্য মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্ত কখনো কি ভেবে দেখেছেন, যে সন্তানটি এমনিতেই ফিতনার স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে,
আমাদের মুখের তপ্ত বাক্য দিয়ে তাকে কি সেই অন্ধকারের অতলেই আরও বেশি করে ঠেলে দিচ্ছি না?
রাসুলুল্লাহ ﷺ এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে গেছেন: তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে বদদুআ করো না, তোমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বদদুআ করো না;
পাছে তা এমন কোনো মুহূর্তের মুখোমুখি হয়ে যায়, যখন আল্লাহর কাছে যা চাওয়া হয় তিনি তা কবুল করে নেন।”(সহিহ মুসলিম: ৩০০৯)
আমাদের পূর্বসূরিদের ঘরেও সন্তানেরা বড় হয়েছে। তাঁদের জীবনেও অবাধ্যতা আর বিচ্যুতি কঠিন সময় এসেছিল। কিন্তু তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেননি;
তাঁরা আশ্রয়ের জন্য ছুটে গেছেন রবের দুয়ারে।
তাবেয়ি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) যখন দেখলেন তাঁর ছেলে আলী কিছুতেই বশে আসছে না, আচরণে ঔদ্ধত্য বাড়ছে-তিনি ছেলের সাথে যুদ্ধ করতে যাননি। তাকে বকাবাকি কিংবা অভিসম্পাতও করেননি। রাতের নির্জনতায় জায়নামাজে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি এই সন্তানকে আদব শেখাতে গিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি, আমি আর পেরে উঠছি না। হে আমার রব, তুমি নিজে আমার পক্ষ থেকে তাকে শিষ্টাচার ও দ্বীন শিখিয়ে দাও!”(সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৮/৪৪৩)
আল্লাহ তাআলা সেই তাকে ফিরিয়ে দেননি। সেই অবাধ্য আলী পরবর্তীকালে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খোদাভীরু ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) তো রাতের পর রাত এই আশায় তাহাজ্জুদে পড়ে থাকতেন যেন তাঁর এই রোনাজারির উসিলায় আল্লাহ তাঁর সন্তানকে হেদায়েতের পথে স্থির রাখেন। (আল-হিলয়াহ: ৩/১৫৩)
সমাধানের দুই পথ: দিনের বুকে সঙ্গ,
অথচ আমরা ভাবি সন্তানকে ভালো স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছি,
ভালো টিউটর রেখে দিয়েছি, তার যখন যা লাগছে ঠিকঠাক দিয়ে দিচ্ছি;
ব্যাস, পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বুঝি এখানেই শেষ!
না শেষ না। দায়িত্ব তো সবে শুরু। সন্তানকে যদি সত্যিই ফিতনার আগুন থেকে রক্ষা করতে চান, তবে অবশ্যই এই দুটি কাজকে একসাথে আঁকড়ে ধরতে হবে:দিনের বেলায় বন্ধুর মতো সঙ্গ: শাসন ও ভয়ের দেয়াল ভেঙে দিন।
সন্তান যত বড়ই হোক, তার পাশে বসুন, তার কথা শুনুন।
ঘরের ভেতর এমন এক নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলুন, যেন বাইরের কোনো বিষাক্ত মোহে পড়ার আগে সে নিঃসঙ্কোচে আপনার বুকে মাথা রেখে মনের সব কথা খুলে বলতে পারে। তাকে কাছে টেনে কপালে চুম খেয়ে বলুন-“আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি। আমাকে তোমার মনের সব কথা খুলে বল।
আমি ছাড়া তোমার বড় বন্ধু আর কে আছে বল?
রাতের গভীরে অশ্রুজলের সমর্পণ: আর যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়বে,তাহাজ্জুদের জায়নামাজে সিজদায় মুখ গুঁজে দিন। আরশের মালিকের কাছে দু’হাত তুলে বলুন-“হে আল্লাহ! এই ফিতনাময় পৃথিবীর হাত থেকে সন্তানকে আগলে রাখার সাধ্য আমার নেই। আমার এই আমানতকে তুমি তোমার কুদরতের চাদরে ঢেকে নাও।”
মনে রাখবেন, শাসন আর অভিমানে যে পাথর গলে না,
আরশের মালিকের রহমতে সেই পাথরও মোমে পরিণত হতে পারে।
এখনকার সময়টাই যে বড় নিষ্ঠুর। চারপাশে ফিতনার এত ছয়লাভ!
চাইলেও আজ সন্তানকে এতকিছু থেকে আগলে রাখা যায় না।
প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া আর রঙিন সব ফিতনার মায়াজাল নিঃসন্দেহে আমাদের সন্তানদের মনোজগতকে গিলে খাচ্ছে। বাবা-মা হিসেবে এই অসহায়ত্বটা সত্যিই বড় অসহনীয়।
ক্ষোভের বিস্ফোরণ নাকি বিষাক্ত তীরের আঘাত? গভীর এই ভয়ের মুহূর্তে আমরা ঠিক কী করি? ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। মেজাজ চড়ে যায়, শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি আর অকথ্য ভাষায় গালাগালি।কখনো কখনো রাগের চোটে জিভ পিছলে"তুই জাহান্নামে যা!", "তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না!"এমন সব অভিশাপ বাক্য মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্ত কখনো কি ভেবে দেখেছেন, যে সন্তানটি এমনিতেই ফিতনার স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে,
আমাদের মুখের তপ্ত বাক্য দিয়ে তাকে কি সেই অন্ধকারের অতলেই আরও বেশি করে ঠেলে দিচ্ছি না?
রাসুলুল্লাহ ﷺ এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে গেছেন: তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে বদদুআ করো না, তোমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বদদুআ করো না;
পাছে তা এমন কোনো মুহূর্তের মুখোমুখি হয়ে যায়, যখন আল্লাহর কাছে যা চাওয়া হয় তিনি তা কবুল করে নেন।”(সহিহ মুসলিম: ৩০০৯)
আমাদের পূর্বসূরিদের ঘরেও সন্তানেরা বড় হয়েছে। তাঁদের জীবনেও অবাধ্যতা আর বিচ্যুতি কঠিন সময় এসেছিল। কিন্তু তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেননি;
তাঁরা আশ্রয়ের জন্য ছুটে গেছেন রবের দুয়ারে।
তাবেয়ি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) যখন দেখলেন তাঁর ছেলে আলী কিছুতেই বশে আসছে না, আচরণে ঔদ্ধত্য বাড়ছে-তিনি ছেলের সাথে যুদ্ধ করতে যাননি। তাকে বকাবাকি কিংবা অভিসম্পাতও করেননি। রাতের নির্জনতায় জায়নামাজে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি এই সন্তানকে আদব শেখাতে গিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি, আমি আর পেরে উঠছি না। হে আমার রব, তুমি নিজে আমার পক্ষ থেকে তাকে শিষ্টাচার ও দ্বীন শিখিয়ে দাও!”(সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৮/৪৪৩)
আল্লাহ তাআলা সেই তাকে ফিরিয়ে দেননি। সেই অবাধ্য আলী পরবর্তীকালে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খোদাভীরু ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির (রহ.) তো রাতের পর রাত এই আশায় তাহাজ্জুদে পড়ে থাকতেন যেন তাঁর এই রোনাজারির উসিলায় আল্লাহ তাঁর সন্তানকে হেদায়েতের পথে স্থির রাখেন। (আল-হিলয়াহ: ৩/১৫৩)
সমাধানের দুই পথ: দিনের বুকে সঙ্গ,
অথচ আমরা ভাবি সন্তানকে ভালো স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছি,
ভালো টিউটর রেখে দিয়েছি, তার যখন যা লাগছে ঠিকঠাক দিয়ে দিচ্ছি;
ব্যাস, পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বুঝি এখানেই শেষ!
না শেষ না। দায়িত্ব তো সবে শুরু। সন্তানকে যদি সত্যিই ফিতনার আগুন থেকে রক্ষা করতে চান, তবে অবশ্যই এই দুটি কাজকে একসাথে আঁকড়ে ধরতে হবে:দিনের বেলায় বন্ধুর মতো সঙ্গ: শাসন ও ভয়ের দেয়াল ভেঙে দিন।
সন্তান যত বড়ই হোক, তার পাশে বসুন, তার কথা শুনুন।
ঘরের ভেতর এমন এক নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলুন, যেন বাইরের কোনো বিষাক্ত মোহে পড়ার আগে সে নিঃসঙ্কোচে আপনার বুকে মাথা রেখে মনের সব কথা খুলে বলতে পারে। তাকে কাছে টেনে কপালে চুম খেয়ে বলুন-“আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি। আমাকে তোমার মনের সব কথা খুলে বল।
আমি ছাড়া তোমার বড় বন্ধু আর কে আছে বল?
রাতের গভীরে অশ্রুজলের সমর্পণ: আর যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়বে,তাহাজ্জুদের জায়নামাজে সিজদায় মুখ গুঁজে দিন। আরশের মালিকের কাছে দু’হাত তুলে বলুন-“হে আল্লাহ! এই ফিতনাময় পৃথিবীর হাত থেকে সন্তানকে আগলে রাখার সাধ্য আমার নেই। আমার এই আমানতকে তুমি তোমার কুদরতের চাদরে ঢেকে নাও।”
মনে রাখবেন, শাসন আর অভিমানে যে পাথর গলে না,
আরশের মালিকের রহমতে সেই পাথরও মোমে পরিণত হতে পারে।