সঠিক ডায়েটেও ওজন কেন কমছে না?

আপলোড সময় : ১০-০১-২০২৬ ০৪:৫৫:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০১-২০২৬ ০৪:৫৫:৪০ অপরাহ্ন
তেলেভাজা খাবার কমানো, মেপে খাওয়া—সবই চলছে নিয়ম মেনে। তবু ওজন কমছে না, বরং কোথাও কোথাও মেদ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকেই এমন সমস্যার মুখে পড়েন। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসে—খাবার ঠিক থাকলেও ওজন কেন কমছে না? বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ডায়েট মেনেও ওজন না কমার পেছনে বড় কারণ হতে পারে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।


অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই কর্টিসলকে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশা বাড়লে এই হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। যদিও কর্টিসলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে—ঘুম থেকে ওঠা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি—তবে মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করে। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা ও উদ্বেগও বাড়ে।




চিকিৎসকদের মতে, কর্টিসলের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তবেই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের প্রকৃত সুফল মিলবে। কিন্তু সমস্যা হলো, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস আর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যে নিঃশব্দে এই হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। প্রিয়জনের মৃত্যু বা দুর্ঘটনার খবর, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শরীরচর্চা, সম্পর্কের টানাপড়েন, কথা কাটাকাটি—এমন নানা বিষয় কর্টিসল বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ সামান্য বিষয়েও অতিরিক্ত চিন্তা করেন, সব কিছু নিয়ে বেশি ভাবেন—ফলে তাদের শরীরে কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি থাকে।




তবে জীবনযাত্রায় কিছুটা সংযম আনলে এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটালে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, অতিরিক্ত ক্যাফিন ও মদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।


কর্টিসলের মাত্রা কমাতে যেসব খাবার উপকারী—



১) ওটস, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস, বিভিন্ন ডাল, ছোলা ও বিন জাতীয় শস্য ফাইবারে সমৃদ্ধ। এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে।
২) টাটকা সবজি, ক্যাপসিকাম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল দুশ্চিন্তা কমাতে কার্যকর, ফলে কর্টিসলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩) কর্টিসল বেড়ে গেলে পেশির ক্ষয় হতে পারে। সেই ক্ষতি কমাতে ডাল, পনির, ডিম ও মুরগির মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার জরুরি।
৪) আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদামের মতো বাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কর্টিসলের উপরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৫) দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার হজমশক্তি ভালো রাখে, যা সামগ্রিকভাবে শরীরের উপর ভালো প্রভাব ফেলে।


কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ ও মেজাজের তারতম্য দেখা দিতে পারে। তাই ওজন কমাতে চাইলে শুধু খাবার নয়, মনকেও শান্ত রাখা জরুরি। উদ্বেগ ও কর্টিসল—দুইটিকেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে হজম ভালো হবে, আর ওজন কমানোও অনেক সহজ হয়ে উঠবে।



সূত্র: আনন্দবাজার

 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv