উচ্ছ্বাস নিয়ে জীবনের প্রথমবার স্কুলে জুনায়েদ, বাড়ি ফিরলো নিথর দেহে

আপলোড সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৮:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৮:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
জীবনের প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা ছিল সাত বছরের শিশু জুনায়েদের চোখ। সকাল ৯টায় স্কুল ড্রেস পরে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যায় সে। যাওয়ার পথে মায়ের কাছে চকোলেটের আবদার করে—মা তা পূরণও করেন। কিন্তু সেই আনন্দই যে অল্প সময়ের মধ্যে শোকে রূপ নেবে, তা হয়তো জানা ছিলো না কারো।



প্রথম দিনের ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ পানির পিপাসা লাগে জুনায়েদের। কাউকে কিছু না জানিয়ে সে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়। স্কুলের পাশেই একটি মসজিদের টিউবওয়েল ছিল। সেখানে পানি তুলতে গিয়ে টিউবওয়েলের শক্ত হ্যান্ডেল চাপার একপর্যায়ে পা পিছলে পাশের গভীর খোলা পানিভর্তি ট্যাংকিতে পড়ে যায় সে। আর সেখান থেকেই আর উঠে আসতে পারেনি ছোট্ট জুনায়েদ—ঘটনাস্থলেই তার সলিল সমাধি ঘটে।




রোববার (১১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই বাজার সংলগ্ন একটি প্রিক্যাডেট স্কুল প্রাঙ্গণে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহত জুনায়েদ স্কুলসংলগ্ন ভাদাই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ছন্দা খাতুনের একমাত্র পুত্র।



স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সবার অগোচরে জুনায়েদ ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। টিউবওয়েল চাপতে গিয়ে সে পিছলে পাশের ট্যাংকিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ঘটনার প্রায় আট ঘণ্টা পর ওই ট্যাংকিতেই জুনায়েদের মরদেহ ভেসে ওঠে।




এদিকে সন্তান হারিয়ে জুনায়েদের বাবা-মায়ের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দিন স্কুলে যাওয়ার সময় জুনায়েদের মধ্যে ছিল সীমাহীন উচ্ছ্বাস। ভোর হতেই মায়ের কাছে স্কুলে যাওয়ার বায়না ধরেছিল সে। সেই বায়নাই যে তার জীবনের শেষ বায়না হবে—তা বুঝতে পারেননি অসহায় বাবা-মা।স্থানীয় স্কুল শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম জানান, ওই ম্যানহোলে আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেউ এটা ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com