যুক্তরাজ্যে প্রবেশে কড়াকড়ি, বিপাকে লাখো দ্বৈত নাগরিক

আপলোড সময় : ১৮-০২-২০২৬ ১২:৫৪:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০২-২০২৬ ১২:৫৪:০৬ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্য সরকারের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে থাকা লাখ লাখ দ্বৈত নাগরিক চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নিয়মের কারণে এখন থেকেই ব্রিটিশ পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে সংগ্রহের জন্য নজিরবিহীন দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে বিপাকে পড়েছেন।

এই নতুন নিয়মে কী আছে?

এতদিন পর্যন্ত ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকেরা (যাঁদের অন্য দেশের পাসপোর্টও রয়েছে) যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় তাঁদের বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারতেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টধারীদের জন্য এটি ছিল সাধারণ বিষয়। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকদের এখন থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অবশ্যই তাঁদের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নির্দিষ্ট নথি প্রদর্শন করতে হবে। অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে এখন আর ‘ভিসা-মুক্ত’ প্রবেশের সুবিধা পাওয়া যাবে না।


সরকার প্রবর্তিত নতুন ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল এই ভ্রমণ পারমিটটি কেবল অ-ব্রিটিশ এবং ভিসা-অব্যাহতি প্রাপ্ত পর্যটকদের জন্য। ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকেরা এই ইটিএ পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে তাঁদের কাছে বিদেশ ভ্রমণের সময় নিচের তিনটি নথির যেকোনো একটি থাকা বাধ্যতামূলক:

১. একটি বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট।

২. একটি বৈধ আইরিশ পাসপোর্ট।

৩. বিদেশি পাসপোর্টে লাগানো ‘রাইট অব অ্যাবোড’ সার্টিফিকেট।


কেন এই জটিলতা?

নিয়মটি কার্যকর হওয়ার তারিখ খুব কাছাকাছি হওয়ায় এবং প্রচারের অভাবে অনেক নাগরিকই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। বিমান সংস্থা, ফেরি এবং ট্রেন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সঠিক নথি ছাড়া কোনো যাত্রীকে যুক্তরাজ্যগামী যানে উঠতে দেওয়া হবে না। অনেক প্রবাসী যারা কয়েক প্রজন্ম ধরে বিদেশে আছেন বা বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁরাও এখন পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন।

পাসপোর্টের এই আকস্মিক প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। একটি নতুন ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য খরচ পড়ছে প্রায় ৯৪ দশমিক ৫০ পাউন্ড (প্রায় ১৩ হাজার টাকা)। অন্যদিকে, বিদেশি পাসপোর্টে ‘রাইট অব অ্যাবোড’ সার্টিফিকেট লাগানোর খরচ আকাশছোঁয়া—প্রায় ৫৮৯ পাউন্ড (প্রায় ৮২,০০০ টাকা)। সমালোচকেরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশু এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের লজিস্টিক ও আর্থিক বিড়ম্বনায় পড়বে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশের সমপর্যায়ের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই ইটিএ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। তবে ‘কমন ট্রাভেল এরিয়া’ চুক্তির কারণে আইরিশ নাগরিকেরা এই কড়াকড়ির আওতামুক্ত থাকবেন।

বর্তমানে লাখ লাখ দ্বৈত নাগরিক এই নির্দিষ্ট ডেডলাইনের আগে তাঁদের নথিপত্র হাতে পেতে দূতাবাসগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকের পরিকল্পনা করে রাখা বিদেশ ভ্রমণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com