সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আনলেন জুমা

আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০৪:৩১:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০৪:৩১:০০ অপরাহ্ন
।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্যদের ভেতরে অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডাকসু সদস্যদের একাংশ যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, তখনই বিষয়টি আরও ভালোভাবে সামনে চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এরপর ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা তো রীতিমতো সমন্বয়হীনতার অভিযোগই এনেছেন সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে।



ঘটনার শুরু শুক্রবার দিবাগত রাতে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরেই যখন ডাকসু সদস্যদের একাংশ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান শহীদ মিনারে, তখন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন মূলত ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টরাই। আর তাতে জায়গা হয়নি ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ বাকি ডাকসু সদস্যদের। 

সর্বমিত্র জানান বিষয়টি তিনি জেনেছেন মূলত বিটিভি লাইভ থেকে। তিনি জানান, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

এর কিছুক্ষণ পরই জুমা জানান তার অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘সব সমস্যার মাঝেও সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে ডাকসুর সমন্বয়হীনতা। শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে ডাকসু কখন ফুল দিতে যাবে— প্রশ্ন দুইবার করার পর কল দিয়ে আমাকে জানানো হয়, সিনেট সদস্যরা যাবে কেবল রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে। সিলেক্টিভ পাস। ফাইন। কিন্তু একটু পর দেখি, এই সিলেক্টিভ পাস একটি দলের ইউনিয়ন লেভেলের কর্মীদেরও আছে। নাই কেবল ডাকসুর। ডাকসুর এটা কেমন গাফলতি, আমি জানি না।’

তিনি আরও জানান, ‘প্রভাতফেরীর আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় করে। সেইটার চিঠি আসে কেবল ভিপি, জিএস, এজিএসের কাছে। এই মেসেজ কনভে করার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেনি। গ্রুপে জিজ্ঞেস করার পরেও না। পরে আমি কল দিয়ে জেনে গ্রুপে নোটিস দিলাম। দেখা যাক, কে কে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।’

‘ডাকসুর পক্ষ থেকে ফুল দিবে সিনেটের সদস্যরা মিলে— এমন প্ল্যান হলে গ্রুপে জানাতেন। অথবা সেখানে পরে সকলের জন্য এন্ট্রি এক্সেস থাকলে বাকিদের গ্রুপে বলে দিতেন যে, এই টাইমে আমরা ফুল দিব, উপস্থিত থাকবেন। সমস্যা তো ছিল না। আপনারা ডাকসুর নাম না নিয়ে ‘সিনেট সদস্যবৃন্দ’ ব্যানারে গেলেও মানুষ বাকি সম্পাদকদের দোষ খুঁজতো না।’

তিনি জানান, পরিস্থিতিটা আলোচনার মাধ্যমে এড়ানোই যেত। তিনি বলেন, ‘একে তো প্রশাসনিক কারণে সকলের উপর চাপ। সেই পথ যখন স্বয়ং ডাকসু প্রতিনিধিরা সুগম করে, তখন বাকিদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। এইসব কিছু গ্রুপে বলে আলাপ করে মিটানো যায়। গ্রুপে মিটিংয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর ক্যাঁচাল লাগার আগে কেউ দেয় না।’

তিনি শেষ করেন, ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আরও এক অভিযোগ এনে। তিনি জানান, সবার কাজগুলো শীর্ষ তিন নেতৃত্বই কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘ডাকসু আমার কাছে শিক্ষার্থীদের আমানত। সম্পাদক হিসেবে আমার দায় আছে শিক্ষার্থীদের কাছে। আমার কাছে শিক্ষার্থীরা জবাব চাইলে আমি দিতে বাধ্য। তবে এই জবাব আমারও দিতে সুবিধা হতো ভিপি-জিএস-এজিএস ব্যাপারগুলো আরো সহজ করলে। আমার এসব সিলি ইস্যুতে কথা বলা লাগতো না আর।’


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com