মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-এর সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম মোকাবিলায় কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “তারপর কে জানে? হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না—এতটাই শান্তি থাকবে।”
তবে তিনি বিস্তারিত বলেননি, কোন নিষেধাজ্ঞা বা কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ভারত সমুদ্রপথে আটকে থাকা রাশিয়া-এর তেল কিনতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ইস্যুতে ইরানকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে গোটা বিশ্বকে বন্দি করার কথা ভাবছে ইরানের সন্ত্রাসী সরকার। এর ফল ভুগতে হবে।”
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরেই দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, “এই মূল্যবৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি। যুদ্ধ শেষ হলেই দাম আবার কমে যাবে।”
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে তার “খুব ভালো” একটি ফোনালাপ হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা হয়েছে এবং তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে আগ্রহী।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকফ দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন তিনি।