তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা: ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, ২২ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:১৮:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৫:১৮:৩৯ অপরাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফজলুল হক মুসলিম হল-এ চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকা ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা-এর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিট আদালত আমলে নিয়েছেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য অন্য আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হান্নানুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। এদিন ওই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

চার্জশিটে ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদসহ ফজলুল হক মুসলিম হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী।

আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ এবং ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ২২ জন পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে আগে অব্যাহতি পাওয়া আটজনের বিরুদ্ধেও পুনরায় তদন্ত করা হয়। পরে আগের তদন্তে অভিযুক্ত ২১ জনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় তাঁদের বাইরে আর কাউকে জড়িত পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ জানুয়ারি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। তবে অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম আসা আটজনকে অব্যাহতি দেওয়ায় বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

সম্পূরক চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাত ৭টা ৪০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে তোফাজ্জল হলের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিন মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর তিনি হলের মাঠে যান। সেখানে বসার ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করেন। পরে তাঁকে হলের মূল ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২৫ মিনিট জেরা ও মারধরের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী বুঝতে পারেন, মুঠোফোন চুরির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এরপর তাঁকে হলের ক্যানটিনে খাওয়ানো হয়।

তবে খাওয়ানোর পর আবারও তাঁকে মারধর করা হয়। শিক্ষকেরা এসে তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও প্রথমে ব্যর্থ হন। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানা-য় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। পরে নিহতের ফুফাতো বোন মোসাম্মৎ আসমা আক্তার ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুম-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত উভয় মামলার তদন্ত একসঙ্গে করার নির্দেশ দেন।


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com