যেভাবেই হোক ইরানের পতন, ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ১২:২৭:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ১২:২৭:২০ অপরাহ্ন
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত ১৩ দিনে গড়ালো। এতে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে হাজারের বেশি। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে দেশটির সরকার দ্রুত পরিবর্তন করা। কিন্তু ১৩ দিন ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের সরকার পরিবর্তনের আভাস মিলছে না। তাই প্লান বি'তে যাচ্ছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। 




দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সংবাদ প্রবাহ দেখে মনে হতে পারে এখানে মূল খেলোয়াড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু আসলে তা নয়। ইসরায়েলের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও এই সংঘাতে মূল খেলোয়াড় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, এই যুদ্ধ শেষ হতে হবে পূর্ণ বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এর চেয়ে কম কিছু হলে তা হবে অর্থহীন। এই যুদ্ধ যদি ইরানের মারাত্মক ক্ষতি কিংবা ব্যাপক প্রাণহানির পরও দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, তাহলে এটি ইসরায়েলের কাছে যথেষ্ট হবে না।




গার্ডিয়ান বলছে, শুরু থেকেই ইরানে এই যুদ্ধ পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এই পরিকল্পনা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।ইরান তাদের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে। যুদ্ধে মোজতবাও যদি নিহত হন এরপরেও দেশটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এক বা একাধিক নেতাকে এরই মধ্যে বেছে রাখা হয়েছে। তাই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশল এখন ‘প্ল্যান বি’-তে পৌঁছেছে। 




রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনায় এখন দুটি কৌশল আছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি হলো- কুর্দি বা বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করে তাদের বিদ্রোহ চাঙ্গা করা, যাতে ইরান ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় কৌশলটিকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। এটি হলো: শত্রুর নিজ দেশে জনসমর্থনে চিড় ধরানো।  এটিকে ‘দাহিয়া নীতি’ বলা হয়।এই নীতি অনুযায়ী, কোনও বিদ্রোহ দমন করা না গেলে বা কোনও রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে বশে আনা সম্ভব না হলে বিজয়ের পথ হলো, বেসামরিক মানুষষের ওপর অবিরাম আঘাত হানা।




ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এখন এই নীতি কাজে লাগাচ্ছে। ইরানের অবকাঠামোর ওপর দেশ দুইটির ক্রমবর্ধমান হামলার প্রমাণ এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com