গায়ে হলুদের আনন্দ শেষ না হতেই বরের মৃত্যু, স্তব্ধ পরিবার

আপলোড সময় : ২৩-০৩-২০২৬ ১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৩-২০২৬ ১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন
কনের গায়ে হলুদের আনন্দ শেষ হতে না হতেই বরের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ দুই পরিবার। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর বিয়ের আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান হবু স্বামী প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লু। জুলফিকার ইসলাম জিল্লু পাবনার ঈশ্বর্দীর দাশুড়িয়ার নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল মুন্সির ছেলে।



জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের বড় ছয়ঘটি গ্রামের কনে মেডিকেল শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুনের গায়ে হলুদ শনিবার (২১ মার্চ) অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বর প্রকৌশলী জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর গায়ে হলুদের দিন রোববার সকালে অনুষ্ঠানের পায়েস রান্নার জন্য নিজে গাড়ি চালিয়ে দুধ আনতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন। 


জানা গেছে, জুলফিকার ইসলাম জিল্লুর গায়ে হলুদের দিন রোববার সকালে অনুষ্ঠানের পায়েস রান্নার জন্য নিজের গাড়ি চালিয়ে দুধ আনতে বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গড়মাটি কলোনি রোড এলাকায় পৌঁছলে তার প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।এই দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই মুহূর্তে বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় শোকের মাতমে। দুই পরিবারেই নেমে আসে নীরবতা আর কান্নার ঢেউ।কনে অন্তরা খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের মেয়ে।



অন্তরা খাতুন দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। মা রওশন আরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং ভাই সোহেল রানা রাজমিস্ত্রির কাজ করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পান অন্তরা। তার সংগ্রামী জীবনের ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল যুগান্তরে খবর প্রকাশিত হলে র‌্যাব-৫ সহ অনেকের তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। 



রোববার (২২ মার্চ) অন্তরার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে। ডেকোরেটরের কর্মীরা বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেল খুলে নিচ্ছেন। ‘বন্ধন ডেকোরেটর’ এর মালিক হৃদয় আহমেদ বলেন, সবকিছু প্রস্তত ছিল। কনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও হয়েছে। কিন্তু বরের মৃত্যুর খবর আসার পর কেউ এই সাজানো প্যান্ডেল সহ্য করতে পারছিল না, তাই খুলে নেওয়া হচ্ছে।



অন্তরার চাচি রোজিনা বেগম বলেন, রাতে বরপক্ষের লোকজন এসে মিষ্টিমুখ করিয়ে গেছে। সকালে ক্ষীর খাওয়ানোর প্রস্তুতি চলছিল, তখনই দুর্ঘটনার খবর আসে। মুহূর্তেই সব আনন্দ শেষ হয়ে গেল।প্রতিবেশী সালমা বেগম বলেন, এমন করে একটা বিয়ের আনন্দ শোক হয়ে যাবে কল্পনাও করিনি। মনে হয় এটাই ছিল মেয়েটার ভাগ্য।অন্তরার চাচা আব্দুর রহিম কথা বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শুধু একটি দীর্ঘশ্বাস যেন ভেসে আসে তার বুকের ভেতর থেকে।একটি স্বপ্নময় বিয়ের আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হলো এক বেদনাবিধুর স্মৃতিতে। উৎসবের রঙ মুছে গিয়ে চারদিকে এখন শুধু শোক আর নীরব। 


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com