কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কথোপকথনের পর নিজের মাকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করেছে এক কিশোর। ১৮ বছর বয়সী ট্রিস্টান রবার্ট ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ৪৫ বছর বয়সী তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে ৪ পাউন্ড ওজনের স্লেজহ্যামার দিয়ে হত্যা করে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্টে চলমান শুনানি থেকে জানা যায়, হত্যার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সে পরিকল্পনা করে এবং পুরো হামলার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও রেকর্ড করে রাখে একটি ডিক্টাফোনে। রবার্ট অনলাইনে একাধিকবার নারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে পোস্ট করেছিল এবং নিজের সমস্যার জন্য তার মাকেই দায়ী করেছিল।
আদালত জানায়, সে ‘ডিপসিক’ নামে একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের কাছে হত্যার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিল। এক পর্যায়ে সে লিখেছিল, ‘দেয়াল, মেঝে ও বিছানায় থাকা রক্ত ও দাগ কীভাবে সহজে পরিষ্কার করা যায়, শুধু সেটা বলো।’ যখন সে জিজ্ঞেস করে, ‘হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি—কোনটি ভালো অস্ত্র?’ তখন সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ওই কিশোর দাবি করে যে সে ধারাবাহিক খুনিদের নিয়ে বই লিখছে, তখন তাকে কিছু উত্তর দেয় ডিপসিক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, ‘ডিপসিক পরামর্শ দেয় যে অনভিজ্ঞ খুনির জন্য হাতুড়ি ভালো হতে পারে এবং এর সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বুধবার আদালত রবার্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, যার মধ্যে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস তাকে কারাগারে থাকতে হবে।
শুনানিতে বলা হয়, রাত প্রায় ১১টার দিকে হামলা শুরু হয়ে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে। পরদিন সকালে একদল পথচারী একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের কাছে গুরুতর মাথার আঘাতসহ শেলিসকে আবিষ্কার করেন। রেকর্ডকৃত অডিও এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা আদালতে শোনানো হয়নি। প্রসিকিউটর জানান, সে টানা সাড়ে চার ঘণ্টার রেকর্ড করেছে, যেখানে প্রথম হামলা থেকে শেষ প্রাণঘাতী আঘাত পর্যন্ত সবকিছু রয়েছে।
রেকর্ডে রবার্টকে বলতে শোনা যায়, ‘এটাই সেই মুহূর্ত। আমরা তাকে স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করব।’ হত্যার আগের দিনগুলোতে সে ডিসকর্ডে লিখেছিল যে সে নিজেকে পরিত্যক্ত, প্রতারিত ও নিপীড়িত মনে করে এবং প্রতিশোধ ও ন্যায়ের জন্য মাকে হত্যা করছে।
প্রসিকিউশন জানায়, সে ইন্টারনেটে দীর্ঘ সময় ধরে হত্যাকাণ্ড, হত্যার পদ্ধতি ও অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেছে এবং অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে। ১৮ অক্টোবর সে অনলাইনে কয়েকটি হাতুড়ি, একটি কুঠার ধার করার পাথর, প্লাস্টিক শিট ও গ্লাভস কিনে।
ঘটনার রাতে সে প্রথমে বাড়িতে মায়ের ওপর হামলা চালায়, এরপর চিকিৎসার কথা বলে তাকে বাইরে নিয়ে যায়। মাকে একটি মুখোশ পরিয়ে রেললাইন পার করে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারে নিয়ে যায় এবং একটি বেঞ্চের কাছে নিয়ে ব্যাগ থেকে স্লেজহ্যামার বের করে কয়েকবার মাথায় আঘাত করে হত্যা করে।
আদালতে জানানো হয়, শেলিস অস্ত্রটি দেখে চিৎকার শুরু করেছিলেন, এরপর তাকে আঘাত করা হয়। অডিওতে অন্তত চারটি আঘাতের শব্দ শোনা গেছে। হত্যার পর রবার্ট বলে, ‘আমি তাকে মেরে ফেলেছি… কাজ শেষ।’
মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে শেলিসের মৃত্যু হয়। পরে রবার্ট তার মায়ের মরদেহ প্রায় ১০০ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে আসে। পরে পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। উত্তর ওয়েলস পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে এবং চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে।
শুনানির সময় নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার মা সবসময় ট্রিস্টানকে ভালোবেসেছেন।’ নিহতের বোন সারা গুন্থার বলেন, ‘তোমার প্রতি আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। রাগ, বিভ্রান্তি ও হৃদয়ভাঙা—সবই আছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে এখনো তোমার প্রতি আমার মায়া রয়েছে।’
আদালত আরও শুনেছে, অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন শেলিস। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানান, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে। নিজের ফোনে তিনি একটি নোটও লিখেছিলেন, তা হলো- ‘কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?’
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্টে চলমান শুনানি থেকে জানা যায়, হত্যার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সে পরিকল্পনা করে এবং পুরো হামলার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও রেকর্ড করে রাখে একটি ডিক্টাফোনে। রবার্ট অনলাইনে একাধিকবার নারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে পোস্ট করেছিল এবং নিজের সমস্যার জন্য তার মাকেই দায়ী করেছিল।
আদালত জানায়, সে ‘ডিপসিক’ নামে একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের কাছে হত্যার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিল। এক পর্যায়ে সে লিখেছিল, ‘দেয়াল, মেঝে ও বিছানায় থাকা রক্ত ও দাগ কীভাবে সহজে পরিষ্কার করা যায়, শুধু সেটা বলো।’ যখন সে জিজ্ঞেস করে, ‘হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি—কোনটি ভালো অস্ত্র?’ তখন সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ওই কিশোর দাবি করে যে সে ধারাবাহিক খুনিদের নিয়ে বই লিখছে, তখন তাকে কিছু উত্তর দেয় ডিপসিক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, ‘ডিপসিক পরামর্শ দেয় যে অনভিজ্ঞ খুনির জন্য হাতুড়ি ভালো হতে পারে এবং এর সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বুধবার আদালত রবার্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, যার মধ্যে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস তাকে কারাগারে থাকতে হবে।
শুনানিতে বলা হয়, রাত প্রায় ১১টার দিকে হামলা শুরু হয়ে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে। পরদিন সকালে একদল পথচারী একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের কাছে গুরুতর মাথার আঘাতসহ শেলিসকে আবিষ্কার করেন। রেকর্ডকৃত অডিও এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা আদালতে শোনানো হয়নি। প্রসিকিউটর জানান, সে টানা সাড়ে চার ঘণ্টার রেকর্ড করেছে, যেখানে প্রথম হামলা থেকে শেষ প্রাণঘাতী আঘাত পর্যন্ত সবকিছু রয়েছে।
রেকর্ডে রবার্টকে বলতে শোনা যায়, ‘এটাই সেই মুহূর্ত। আমরা তাকে স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করব।’ হত্যার আগের দিনগুলোতে সে ডিসকর্ডে লিখেছিল যে সে নিজেকে পরিত্যক্ত, প্রতারিত ও নিপীড়িত মনে করে এবং প্রতিশোধ ও ন্যায়ের জন্য মাকে হত্যা করছে।
প্রসিকিউশন জানায়, সে ইন্টারনেটে দীর্ঘ সময় ধরে হত্যাকাণ্ড, হত্যার পদ্ধতি ও অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেছে এবং অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে। ১৮ অক্টোবর সে অনলাইনে কয়েকটি হাতুড়ি, একটি কুঠার ধার করার পাথর, প্লাস্টিক শিট ও গ্লাভস কিনে।
ঘটনার রাতে সে প্রথমে বাড়িতে মায়ের ওপর হামলা চালায়, এরপর চিকিৎসার কথা বলে তাকে বাইরে নিয়ে যায়। মাকে একটি মুখোশ পরিয়ে রেললাইন পার করে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারে নিয়ে যায় এবং একটি বেঞ্চের কাছে নিয়ে ব্যাগ থেকে স্লেজহ্যামার বের করে কয়েকবার মাথায় আঘাত করে হত্যা করে।
আদালতে জানানো হয়, শেলিস অস্ত্রটি দেখে চিৎকার শুরু করেছিলেন, এরপর তাকে আঘাত করা হয়। অডিওতে অন্তত চারটি আঘাতের শব্দ শোনা গেছে। হত্যার পর রবার্ট বলে, ‘আমি তাকে মেরে ফেলেছি… কাজ শেষ।’
মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে শেলিসের মৃত্যু হয়। পরে রবার্ট তার মায়ের মরদেহ প্রায় ১০০ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে আসে। পরে পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। উত্তর ওয়েলস পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে এবং চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে।
শুনানির সময় নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার মা সবসময় ট্রিস্টানকে ভালোবেসেছেন।’ নিহতের বোন সারা গুন্থার বলেন, ‘তোমার প্রতি আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন। রাগ, বিভ্রান্তি ও হৃদয়ভাঙা—সবই আছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে এখনো তোমার প্রতি আমার মায়া রয়েছে।’
আদালত আরও শুনেছে, অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন শেলিস। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানান, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে। নিজের ফোনে তিনি একটি নোটও লিখেছিলেন, তা হলো- ‘কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?’