পাইলট উদ্ধারে ইরানি ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা করেছিল মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ১১:৩৬:৪৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ১১:৩৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের কোনো ইরানি ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা করেছিল বলে এক্সক্লুসিভ তথ্য জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রকাশ করেছেন, ওই সেনা সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া একটি রেডিও বার্তাকে শুরুতে ইরানি বাহিনীর সাজানো কোনো কৌশল বা প্রতারণা বলে মনে করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। 


স্থানীয় সময় শনিবার (৪ এপ্রিল) এক শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযানে আহত অবস্থায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইরানি সেনাবাহিনী একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌভাগ্যবশত ওই বিমানটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল।


উদ্ধার অভিযানের নেপথ্যের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রযুক্তির সাহায্যে ওই কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করার পর তাঁর রেডিও থেকে একটি সংক্ষিপ্ত ও কিছুটা অস্বাভাবিক বার্তা আসে। ক্রু সদস্যটি রেডিওতে ‘গড ইজ গুড’ বা ‘ঈশ্বর মঙ্গলময়’ বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন। 


]ট্রাম্পের মতে, শুরুতে এই বার্তাটি শুনে কর্মকর্তাদের মনে হয়েছিল এটি কোনো মুসলিম ব্যক্তির উচ্চারিত বাক্যের মতো শোনাচ্ছে, যা থেকে সন্দেহ দানা বাঁধে যে হয়তো ইরানিরা ওই সেনাকে বন্দি করে ভুয়া সংকেত পাঠাচ্ছে। তবে পরবর্তীতে ওই সেনা সদস্যের পরিচিতরা নিশ্চিত করেন যে তিনি অত্যন্ত ধার্মিক এবং এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মুখে এ ধরনের কথা আসা অস্বাভাবিক নয়। এই তথ্যের ভিত্তিতেই মার্কিন বাহিনী নিশ্চিত হয় যে তিনি জীবিত আছেন এবং ইরানিদের হাতে বন্দি হননি।

এই উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হাজার হাজার ইরানি সেনা এবং স্থানীয় লোকজন ওই মার্কিন সেনাকে খুঁজে বের করার জন্য পুরস্কারের আশায় পাহাড়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এর আগে শুক্রবার দিনের আলোয় ভারী গোলাগুলির মধ্যে প্রথম পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের ক্ষেত্রে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এবং ইরানের ভেতরে একটি অস্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, দুই ক্রু সদস্য পরস্পর থেকে কয়েক মাইল দূরে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং পুরো এলাকায় ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শত শত সদস্য মোতায়েন ছিল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনেন।

উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ভূমিকার বিষয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সামান্য’ সহায়তা করেছে। যদিও ইসরায়েল সরাসরি ওই কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি, তবে তারা ওই এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করেছিল। 

এছাড়া ইরানি বাহিনী যাতে উদ্ধারকারী দলের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েলি বিমান বাহিনী একটি বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প ইসরায়েলকে একটি ‘সাহসী জাতি’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে অভিহিত করে এই নজিরবিহীন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বর্তমানে দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com