কলকাতায় অবস্থিত বিএসএফের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বার্নওয়াল বলেন, ‘আমাদের অরক্ষিত নদী সীমান্তগুলোতে সাপ বা কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই পরিকল্পনাটি মূলত বন্যাপ্রবণ অঞ্চল এবং উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকায় কুমির ও সাপের মতো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রথাগত বেড়া দেয়া সম্ভব নয়।’বিএসএফ-এর একটি অভ্যন্তরীণ বার্তার বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা হিন্দু’ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে বলেছে, অনুপ্রবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নদী এলাকাগুলোতে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিএসএফ-এর ফিল্ড ইউনিটগুলোকে এরইমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসএফ সদর দফতর থেকে ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তের সকল ফিল্ড ইউনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ‘দ্য হিন্দু’ এই বার্তার একটি অনুলিপি দেখেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘‘সরীসৃপ ব্যবহারের এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।’’এতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘অরক্ষিত নদীপথগুলোতে সরীসৃপ (যেমন সাপ বা কুমির) মোতায়েনের সম্ভাব্যতা অপারেশনাল বা কার্যকর করার দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই ও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’’এ বিষয়ে বিএসএফ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।তবে বার্নওয়াল বলেন, ‘‘এটি একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ, তবে এতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এটি নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমরা কীভাবে এই সরীসৃপগুলো সংগ্রহ করব? নদী তীরবর্তী সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?’’
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১৭ মার্চের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে সরকার ৩,৩২৬.১৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২,৯৫৪.৫৬ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্যের মধ্যে প্রায় ৩৭১ কিলোমিটার এলাকায় এখনও বেড়া দেওয়া বাকি। দুই দেশের সীমান্তের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বদ্বীপ অঞ্চল, যেখানে হিমালয় থেকে আসা নদীগুলো সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ হলো ভারতের প্রধান সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পূর্ব সীমান্তের বড় একটি অংশ বন্যাপ্রবণ এবং সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থার কারণে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা কঠিন। বিএসএফের একজন কর্মকর্তার বরাতে দ্যা হিন্দু জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সরীসৃপ সংক্রান্ত এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়নি। এটি কেবল সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য বলা হয়েছে। এতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেহেতু এই এলাকাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ, তাই ‘‘সরীসৃপ ব্যবহারের’’ বিষয়টি সীমান্তের উভয় পাশের গ্রামবাসীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে বন্যার সময়।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে দেড় বছরের কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরকে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা পুনঃস্থাপনের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত শত শত কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে অসংখ্য বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিবাসীদের ‘‘উইপোকা’’ এবং ‘‘অনুপ্রবেশকারী’’ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন বিভিন্ন সময়।মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে।
বিএসএফ সদর দফতর থেকে ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তের সকল ফিল্ড ইউনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ‘দ্য হিন্দু’ এই বার্তার একটি অনুলিপি দেখেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘‘সরীসৃপ ব্যবহারের এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।’’এতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘অরক্ষিত নদীপথগুলোতে সরীসৃপ (যেমন সাপ বা কুমির) মোতায়েনের সম্ভাব্যতা অপারেশনাল বা কার্যকর করার দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই ও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’’এ বিষয়ে বিএসএফ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।তবে বার্নওয়াল বলেন, ‘‘এটি একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ, তবে এতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এটি নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমরা কীভাবে এই সরীসৃপগুলো সংগ্রহ করব? নদী তীরবর্তী সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?’’
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১৭ মার্চের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে সরকার ৩,৩২৬.১৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২,৯৫৪.৫৬ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্যের মধ্যে প্রায় ৩৭১ কিলোমিটার এলাকায় এখনও বেড়া দেওয়া বাকি। দুই দেশের সীমান্তের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বদ্বীপ অঞ্চল, যেখানে হিমালয় থেকে আসা নদীগুলো সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ হলো ভারতের প্রধান সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পূর্ব সীমান্তের বড় একটি অংশ বন্যাপ্রবণ এবং সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থার কারণে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা কঠিন। বিএসএফের একজন কর্মকর্তার বরাতে দ্যা হিন্দু জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সরীসৃপ সংক্রান্ত এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়নি। এটি কেবল সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য বলা হয়েছে। এতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেহেতু এই এলাকাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ, তাই ‘‘সরীসৃপ ব্যবহারের’’ বিষয়টি সীমান্তের উভয় পাশের গ্রামবাসীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে বন্যার সময়।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে দেড় বছরের কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরকে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা পুনঃস্থাপনের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত শত শত কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে অসংখ্য বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিবাসীদের ‘‘উইপোকা’’ এবং ‘‘অনুপ্রবেশকারী’’ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন বিভিন্ন সময়।মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে।