আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা - মেয়ের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা

আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৪২:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৪২:৪৩ অপরাহ্ন
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাজিয়া সুলতানা। মেয়ের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার স্কুল ছাত্রী অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে (৩৪) মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম রনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে।



আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল নামের একটি বাসা থেকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক রনিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।



তদন্তে জানা যায়, ঘটনার কিছুদিন আগে অদিতা রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি বাসায় প্রবেশ করে অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। পরে ঘটনাকে ডাকাতি বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে পালিয়ে যান।নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেনের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।


রায় ঘোষণার পর অদিতার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মা এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট না পান।


আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। মামলার বিভিন্ন দিক ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে আমাদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচিত হবে।মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন বলেন, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণ শেষে আদালত ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। আমরা শুরু থেকেই বিশ্বাস করতাম, সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।


ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, মামলাটিতে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন।


 __________________________________________________________

MyTv Bhaban, 155, 150/3, Hatirjheel, Dhaka-1219

Phone. ☎ +880255128896 ; Fax. +880255128899

Email. news@mytvbd.tv

web: www.mytvbd,www.mytvbd.com