ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন তেল ডিপোর ওপর লোহার তৈরি খাঁচা বা প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা পরবর্তীতে জ্বালানি অবকাঠামোর দিকেও বিস্তৃত হয়।
এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন তেল ডিপো ও তেলক্ষেত্র ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের এসব ড্রোন যাতে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করতে না পারে, সেজন্য এখন তেল সংরক্ষণাগারগুলোর ওপর লোহার জাল বা খাঁচার মতো কাঠামো বসানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে ড্রোনের সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
আমিরাতের অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাস খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। পাশাপাশি রপ্তানি খাত থেকেও প্রায় ১৩ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে চলমান সংঘাতের সময় আমিরাতের অবস্থান নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটি দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং তাদের সেনাদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ ঘটনার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে আমিরাতে ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে। এ ধরনের হুমকির মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ইরানের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে উসকে দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Mytv Online