ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু অস্ট্রেলিয়ার শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আজ ১০ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সংকেত বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে কেন জিতলেও ব্রাজিল, হারলেও ব্রাজিল: বুবলী বিরোধী দলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা : প্রধানমন্ত্রী হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ হাজি সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে আবারো বাংলাদেশি নিহত দেশের ১৩ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত ৮৯ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৬৪৩ জনের উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে বিপাকে ইউন, ৩০ বছরের জেল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই লাল কার্ডের ঝড়! ইতিহাস গড়ে মেক্সিকোর জয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস হাম সন্দেহে একদিনেই ঝরল ৮ শিশুর প্রাণ বৃষ্টিতে ভেসে গেল টাইগারদের দ্বিতীয় লড়াই ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ ফিলিপিন্সে ভূমিকম্পের তিনদিন পরও উদ্ধার হচ্ছে লাশ, মৃত্যু বেড়ে ৪৬ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১৭৫ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

সাত পাকে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নীরব শ্রদ্ধা

  • আপলোড সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১২:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-১২-২০২৫ ১২:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন
সাত পাকে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নীরব শ্রদ্ধা
বিজয় দিবসের দুপুর। চারপাশে মানুষ আর পতাকা। উঠছে মুহুর্মুহু স্লোগান। এসব ভিড় থেকে খানিকটা দূরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট সরকা‌রি আরসি কলেজের প্যারেড গ্রাউন্ডসংলগ্ন পুকুরে তখন অন্য এক দৃশ্য।


কোনো মঞ্চ নেই; নেই মাইক। শুধু জল, আকাশ আর এক তরুণের পদচারণা। সাতবার পুকুর ঘুরে দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
তরুণটির নাম মাহমুদুর রহমান ব‌নি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেহেন্দিগঞ্জের চরহোগলা গ্রামের সন্তান। বিজয় দিবসে তার এই প্রদক্ষিণ ছিল প্রতীকী। প্রতিটি চক্কর যেন একটি করে নাম, একটি করে আত্মত্যাগের স্মৃতি।

জল ছুঁয়ে যাওয়া পায়ের শব্দে মিশে ছিল ১৯৭১-এর গল্প। এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ আসে ২০১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাবনা থেকে। তারা চেয়েছিলেন চেনা আনুষ্ঠানিকতার বাইরে কিছু করতে। সেই ভাবনাকে শরীরের শ্রমে রূপ দেন মাহমুদুর রহমান। নীরব এই কর্মসূচি দেখতে দেখতে অনেকেই থমকে দাঁড়ান।


কেউ ছবি তোলেন, কেউ চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন। মাহমুদুর রহমানের জীবনপথে শারীরিক চ্যালেঞ্জ নতুন নয়। পাহাড়ের চূড়া তাঁর কাছে অচেনা নয়, দীর্ঘ দৌড় কিংবা পানির গভীরতাও নয়। ২০২১ সালে তিনি উঠেছেন দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডংয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাঁতারে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে। হাফ ম্যারাথনেও দৌড়েছেন হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে।

কিন্তু বিজয় দিবসের এই প্রদক্ষিণ ছিল ভিন্ন কিছু। এখানে কোনো মেডেল নেই, কোনো সময় মাপা হয়নি। ছিল শুধু একাগ্রতা আর স্মরণ। তার শরীর ঘুরেছে পুকুরের চারপাশে, আর মন ফিরে গেছে যুদ্ধের সময়ে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এই নীরবতা তাদের বেশি নাড়া দিয়েছে। ফুল আর বক্তৃতার বাইরে গিয়েও যে শ্রদ্ধা জানানো যায়, সেটা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই তরুণ। কেউ কেউ একে বলছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক শান্ত, শিল্পিত প্রকাশ।

জলের বুকে বৃত্ত কেটে কেটে শেষ হয় প্রদক্ষিণ। জল আবার স্থির হয়ে আসে। কিন্তু সাত বীরশ্রেষ্ঠকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই বৃত্ত দেখা না গেলেও অনুভবে থেকে যায়। 

 

কমেন্ট বক্স